জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র সংগ্রহের পরও বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি ১৭ হাজার ৭৭৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী। এর পেছনে রিক্রুটিং এজেন্সিরই সব দায় দেখছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল ওই কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও মালয়েশিয়া যেতে না পারা শ্রমিকদের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলে দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন। তবে টিকিট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি শ্রমিক আটকা পড়েন। এর মধ্যে একাংশ উড়োজাহাজের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি এবং অন্য অংশ পাননি নিয়োগকর্তার চূড়ান্ত সম্মতি।
পরে জনস্বার্থে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত ও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের টাকা ফেরতের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৪ জুন হাইকোর্ট মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মীদের জীবন ধ্বংসের জন্য কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও খামখেয়ালিপনাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ১৭ হাজার ৭৭৭ শ্রমিকের কাছ থেকে নেয়া অর্থ সুদসহ ফেরত দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে তিন মাস অন্তর এ ঘটনার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের কাছ থেকে নেয়া সমুদয় অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মী পাঠাতে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগেরও আইনানুগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে সংগতি রেখে চাহিদাপত্র ও ভিসা ইস্যুর তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কিছু সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন, যাতে চাহিদাপত্র ইস্যু থেকে শুরু করে কর্মীর বিদেশগমন ও পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যন্ত তদারক করা যায়। এ ব্যবস্থাপনায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সংযুক্ত থাকবে। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগানুমতি গ্রহণের পর বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স কার্ড নেয়া এবং কর্মী পাঠানো নির্দিষ্ট করার সুপারিশও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অভিবাসী কর্মীদের কাছ থেকে ব্যয়ের অর্থ নেয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাছাড়া ই-ভিসাপ্রাপ্ত কিন্তু মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ কর্মীদের বিষয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে সে দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।